পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও সংস্কৃতি জগতে ফের এক নতুন জোয়ার আসতে চলেছে। ২০২৬-২৭ সালে দ্বিতীয় সংস্করণে ফিরতে চলেছে আন্তর্জাতিক মানের শিল্প উৎসব ‘বেঙ্গল বিয়েনালে’। কবি জীবনানন্দ দাশের অমর সৃষ্টির ছোঁয়া নিয়ে এ বারের উৎসবের থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বনলতা’। শিল্প, প্রকৃতি এবং মানুষের নিবিড় সম্পর্ককে ক্যানভাস ও রূপকল্পে ফুটিয়ে তুলতে তিলোত্তমা কলকাতা এবং বীরভূমের শান্তিনিকেতনে একযোগে বসবে এই বিশ্বমানের আর্ট মহোৎসব।
মূল ভাবনা ও প্রধান আকর্ষণ
আয়োজকদের মতে, দ্বিতীয় সংস্করণে উদীয়মান শিল্পীদের তুলে ধরার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন চিন্তাভাবনা ও মৌলিক শিল্পকর্মকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দিতে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ।
- ইমার্জিং আর্টিস্টস ওপেন কল: এই প্রথম তরুণ ও নতুন শিল্পীদের জন্য বিশেষ উন্মুক্ত আহ্বান বা প্রতিযোগিতা চালু করা হচ্ছে।
- যৌথ শিল্প প্রকল্প: দেশি ও বিদেশি চিত্রশিল্পী, ভাস্কর এবং ভিজ্যুয়াল আর্টিস্টদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য যৌথ প্রজেক্ট গড়ে তোলা হবে।
- বহুমাত্রিক প্রদর্শনী: কলকাতা ও শান্তিনিকেতনের একাধিক ঐতিহ্যবাহী স্থান ও গ্যালারিতে থাকবে বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনী, ভাস্কর্য ও ইনস্টলেশন আর্ট।
প্রেক্ষাপট ও স্থান নির্বাচন
প্রথম সংস্করণের অভূতপূর্ব সাড়ার পর দ্বিতীয় সংস্করণকে আরও বড় পরিসরে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন, যা চিরকালই প্রকৃতি ও শিল্পের মেলবন্ধনের প্রতীক, তার সঙ্গে তিলোত্তমা কলকাতার শিল্পচেতনাকে যুক্ত করা হয়েছে। ‘বনলতা’ থিমের মাধ্যমে আধুনিক নগরায়নের যুগে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের হারিয়ে যাওয়া আত্মিক টান পুনর্প্রতিষ্ঠা করার বার্তা দেওয়াই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
শিল্পী সমাজ ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের জন্য বার্তা
এই বৃহৎ আর্ট বিয়েনালের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পর্যটনে বড় প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে:
- স্থানীয় প্রথিতযশা ও নবীন শিল্পীরা বিশ্বমানের কিউরেটর ও আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার সরাসরি সুযোগ পাবেন।
- কলকাতার পাশাপাশি বীরভূমের জেলাস্তরের শিল্পপ্রেমী ও পর্যটকদের জন্য এটি এক অনন্য অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি করবে।
- রাজ্যের সাংস্কৃতিক অর্থনীতি ও হস্তশিল্প ক্ষেত্রেও এই বিয়েনালে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
আয়োজক কমিটির সূত্রে খবর, নতুন শিল্পীদের দরখাস্ত জমা দেওয়ার সময়সীমা ও নির্দেশিকা খুব শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে কলকাতা ও শান্তিনিকেতনের উপযুক্ত প্রদর্শনীস্থল নির্বাচন এবং পরিকাঠামো তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।







