মূল ঘটনা ও তথ্য
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ শক্তি হারানোর পথে, বর্তমানে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ ওড়িশার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইন্ডিয়ান মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (IMD) এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ ও ৩১ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে, দক্ষিণ আন্দামান সাগরে নতুন ঘূর্ণাবর্ত গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা এখনও গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে।
কীভাবে বিকাশ ঘটছে
- ৩০ অক্টোবর (শুক্র) পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও দক্ষিণ ২৪ পারগনা জেলায় হালকা থেকে মাঝারি ঝড়বৃষ্টি (৭‑১১ সেন্টিমিটার)।
- উক্ত জেলাগুলির দু-এক স্থানে ঘন্টায় ৪০‑৫০ কিমি বাতাসের গতি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা।
- ৩১ অক্টোবর (শনিবার) পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বজ্রপাতসহ বৃষ্টি।
- ১‑৫ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় মাঝে মাঝে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, তবে ঝড়বৃষ্টি কমতে থাকবে।
সরকারি ঘোষণা
"বিশেষ বিজ্ঞপ্তি ১৫ : ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর অবশিষ্টাংশ দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশায় গভীর নিম্নচাপ; দক্ষিণ আন্দামান সাগরে নিম্নচাপের অঞ্চল।" – IMD Kolkata
প্রেক্ষাপট ও কারণ
‘অর্ণব’ ঘূর্ণিঝড়টি রবিবারের প্রাক্কালে গঠিত হয়েছিল এবং এরপর ধীরে ধীরে শক্তি হারিয়েছে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আর্দ্রতা ও সমুদ্রের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি কমে যাচ্ছে। একই সময়ে, দক্ষিণ আন্দামান সাগরে নতুন ঘূর্ণাবর্ত গঠনের জন্য অনুকূল আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে, তবে তা এখনও ঘূর্ণিঝড় পর্যায়ে পৌঁছেনি।
প্রভাব ও জনজীবন
- পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর: ৭‑১১ সেন্টিমিটার বৃষ্টি, ঘন্টায় ৪০‑৫০ কিমি বাতাস, বজ্রপাতের সম্ভাবনা।
- পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া: হালকা থেকে মাঝারি ঝড়বৃষ্টি, ঘন্টায় ৩০‑৪০ কিমি বাতাস।
- দক্ষিণ ২৪ পারগনা: হালকা থেকে মাঝারি ঝড়বৃষ্টি, ঘন্টায় ৪০‑৫০ কিমি বাতাস।
- মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া: হালকা থেকে মাঝারি বজ্রপাতসহ বৃষ্টি, ঘন্টায় ৩০‑৪০ কিমি বাতাস।
এই ঝড়বৃষ্টির কারণে সড়কপথে যানজট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, কৃষি জমিতে ছিটকে পড়া বালির কারণে ক্ষতি দেখা দিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে ও বৃষ্টি-প্রতিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণে আহ্বান জানিয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
- IMD ৩০ ও ৩১ অক্টোবরের জন্য হালনাগাদ আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রকাশ করবে।
- স্থানীয় জলবায়ু বিভাগ ও জরুরি সেবা বিভাগ ঘূর্ণিঝড়ের পরিণতি মূল্যায়ন করবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ব্যবস্থা নেবে।
- নাগরিকদের অনুরোধ করা হচ্ছে বৃষ্টির আগে বাসা ও জমি সুরক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে।







