উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ থানা এলাকায় বিয়ের মাত্র দুই বছরের মধ্যে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত বধূর নাম শম্পা। নয় মাসের শিশুপুত্রের জন্য খাবার নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে শ্বশুরবাড়িতে ঢোকার পরেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। এই মৃত্যুর পেছনে পারিবারিক নির্যাতন ও স্বামীর হুমকি রয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে মৃতের বাপের বাড়ির পরিবার।
মূল ঘটনা ও অভিযোগ
স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন শম্পা তাঁর নয় মাসের শিশুপুত্রকে কোলে নিয়ে বাপের বাড়িতে দেখা করতে এসেছিলেন। অভিযোগ, সেই সময়েই স্বামী মৃত্যুঞ্জয় তাঁকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, তিনি যেন আর কোনোদিন শ্বশুরবাড়িতে পা না রাখেন। স্বামীর হুমকির মুখে সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়িতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শম্পা। তবে বাপের বাড়িতে আসার পর তিনি বুঝতে পারেন, শিশুর প্রয়োজনীয় খাবার শ্বশুরবাড়িতেই ফেলে এসেছেন। বাধ্য হয়ে সেই খাবার সংগ্রহ করতেই তিনি পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান এবং ঘরে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
প্রেক্ষাপট ও পারিবারিক বিবাদ
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই শম্পার সঙ্গে তাঁর স্বামী মৃত্যুঞ্জয়ের বনিবনা হচ্ছিল না। গত দুই বছর ধরে নানা পারিবারিক কারণে তাঁদের মধ্যে ঘনঘন অশান্তি হতো।
"সন্তানের খাবারের জন্যই মেয়েটি বাধ্য হয়ে আবার সেই ঘরে ঢুকেছিল। ঘরে ঢোকার পরপরই কী এমন ঘটল যে সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেল? আমরা এই মৃত্যুর নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই।"
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর খড়দহ ও সংলগ্ন এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মতে:
- নয় মাসের এক দুগ্ধপোষ্য শিশু মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হলো, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
- বিয়ের অল্প সময়ের মধ্যে বধূ নির্যাতনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনিক নজরদারির প্রয়োজনীয়তা ফের সামনে আসছে।
- ঘটনার পেছনের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে পুলিশি নিষ্পক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরবর্তী পদক্ষেপ
খড়দহ থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ—এটি আত্মহত্যা, বিষক্রিয়া নাকি অন্য কোনো অপরাধ—তা স্পষ্ট হবে। বাপের বাড়ির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পুলিশ ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।







