সিনেমার নায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিল একদল সাইবার প্রতারক। এই ঘটনায় পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর কণ্ঠস্বর নকল করে ফোন করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের সন্দেহ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে পরিচালকের কণ্ঠ বানিয়ে এই প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছিল। দক্ষিণ কলকাতার বাঁশদ্রোণী থানায় এই নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিনয়ে আগ্রহী ওই যুবক ফেসবুকে একটি খ্যাতনামা প্রযোজনা সংস্থার ভুয়ো পেজ দেখতে পান। সেই পেজে দাবি করা হয়েছিল, একটি ঐতিহাসিক চরিত্রের ওপর চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে। যুবকটি সেখানে যোগাযোগ করলে তাঁকে একটি ফোন নম্বর দেওয়া হয় এবং বলা হয় সেটি পরিচালকের নম্বর। সেই নম্বরে ফোন করতেই অপর প্রান্তে থাকা এক ব্যক্তি নিজেকে রাজ চক্রবর্তী বলে দাবি করে। জালিয়াতদের সেই চালাকি ধরতে পারেননি ওই যুবক।
এরপর ধাপে ধাপে টাকা আদায় শুরু হয়। প্রথমে নথিভুক্তিকরণ বা এনরোলমেন্টের জন্য যুবকের থেকে ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়, যা তিনি সুমিত কুমার নামের এক ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। পরদিন প্রোফাইল শুটের অজুহাতে চাওয়া হয় আরও ৯২ হাজার টাকা। বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করতে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়েছিল সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার জাল নথি ও কাজের চুক্তিপত্র। যুবকটি সেই টাকা দুই দফায় (৫০ হাজার ও ৪২ হাজার টাকা) শুভজিৎ ও অজিতা নামের দুটি আলাদা অ্যাকাউন্টে পাঠান।
এর পরের দিন দ্বিতীয় দফার প্রোফাইল শুটের কথা বলে শুভজিতের অ্যাকাউন্টে আবারও ৮৫ হাজার টাকা পাঠাতে বলা হলে তিনি তা দিয়ে দেন। তবে এরপরেও যখন নতুন করে আরও টাকা দাবি করা হয়, তখন যুবকের মনে সন্দেহ জাগে। পরিচিতদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি একটি বড় সাইবার প্রতারণা চক্রের খপ্পরে পড়েছেন, যেখানে পরিচালকের গলা নকল করে কথা বলা হচ্ছিল। প্রতারিত হয়েছেন বুঝে তিনি বাঁশদ্রোণী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ফোন নম্বরের সূত্র ধরে অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।







